The Law of The Universe !!!

Posted: April 5, 2014 in ইসলাম, তাওহীদ
Tags:

মহাগ্রন্থ কুর’আনে আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তা’ আলা বারবার ‘জাহান্নাম’ এর কথা বলেছেন.. আমরা ধারনা করি জাহান্নাম আমাদের থেকে অনেক অনেক দূরে ।

আমরা ভাবি সেই দুঃসহ বিপদের স্থান অনেক দূরে । মানে পরকালে যা কিনা বর্তমান থেকে বহু দূরে । সেই নিদারুণ যন্ত্রণা এবং অত্যাচার এখনো বহু ক্রোশ দূরের ব্যাপার ।

আচ্ছা হয়তোবা তাই ই । হয়তোবা যেটা ভাবা হচ্ছে সেটাই ঠিক। জাহান্নাম পরকালে অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য । যা কিনা বেশ খানিকটা সময়ের পরই আমাদের নাগাল পাবে।

কিন্তু বাস্তবিক অর্থে আমরা যেটা বুঝতেই চাইনা সেটা হচ্ছে আসলে আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তা’আলার অপছন্দনীয় কাজে ব্যস্ত হলে কিংবা আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তা’আলাকে  ভালো না বাসলে অতি শীঘ্রই এই জীবনে অর্থাৎ ইহকালেই আমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক সময়ের মুখোমুখি হতে হবে।

শুধুমাত্র এই একটি কথাই সবকিছুর উত্তর দিয়ে দেয়। তাই নয় কি ?

 

আমরা কি নিয়ে বেশী ভাবি, কি নিয়ে দুশ্চিন্তা করি , আমাদের কি বা কাকে হারানোর ভয় আছে, কি আমাদের রাগিয়ে দেয় , সবার আগে আমাদের মাথায় কি আসে , সালাত আদায়ের সময় কি আমাদের মনোযোগ কেড়ে নেয় ??

সেটা হতে পারে আপনার পরিবার , সন্তান-সন্ততি, আপনার স্ট্যাটাস , অর্থবিত্ত , রেজাল্ট শিট কিংবা আপনার ব্যাপারে মানুষজন কি বলছে । অথবা লোকজন আপনাকে নিয়ে কি বলাবলি করছে!! আপনার ইমেজ কি ভালো না খারাপ। ইত্যাদি ইত্যাদি …

সেটা যেটাই হোক না কেন ঐ সুনির্দিষ্ট বিষয়টিই আপনার দুর্বিষহ যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াবে । আপনাকে নিঃশেষ করে দিতে থাকবে আস্তে আস্তে ।।

বোঝা যাচ্ছে এটা কীভাবে আগে থেকেই নির্দিষ্ট হয়ে আছে ?!

আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তা’আলা একটি সুনির্দিষ্ট পন্থায় এই মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন। তেমনি তিনি মানুষের হৃৎপিণ্ডকেও সুনির্দিষ্টভাবে সৃষ্টি করেছেন।

তাই কেউ যখন এই আল্লাহ তা’আলার ডিজাইনের বাইরে যায় , যখন এই ডিজাইনের পরিপন্থী কাজে লিপ্ত হয় তখন অসহনীয় যন্ত্রণার উপলব্ধি হয়।

কেননা আপনি এই মহাবিশ্বের সূত্র লঙ্ঘন করেছেন।

এখন প্রশ্ন হতেই পারে , মহাবিশ্বের সূত্র কি ?? 

 

                                                                                                                                                                                                            لا الہٰ الا اللہ ( la ilaha illallah ) 

There is no Diety  worthy of worship except Allah

 

 কেবল একটা উদ্ধৃতি নয়। যদিও আমরা উঠতে বসতে এই লাইনটি বলে থাকি তবুও এটি কেবল মাত্র একটি বাক্য নয়।  لا الہٰ الا اللہ

 

যখন আমরা বলি আমাদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে আমাদের পালনকর্তার সমকক্ষ কেউ নেই, তখন এটাও বোঝানো হয় যে এমন কিছুই থাকতে পারে না , যা আমাদের মস্তিষ্ক কে সারাদিন ব্যস্ত রাখতে পারে।

শুধুমাত্র আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তা’আলা ছাড়া আর কোনো বস্তু/বিষয়েরই এই যোগ্যতা থাকতে পারে না।

ঘুম থেকে উঠার পর কিংবা ঘুমাতে যাওয়ার আগে মনে করার মতো আর কোনো কিছুরই এতটা গুরুত্ব কিংবা যোগ্যতা নেই এবং থাকতে পারে না।

অথবা সালাতে দাড়ানোর সময়ও।

এইটুকু গুরুত্ব কেবল আল্লাহ তা’আলাই পেতে পারেন। আর কোনো কিছু/ কেউ পেতে পারে না।

আত্মার অন্তস্থলে গভীর দাগ ফেলে দেয়ার কিংবা সারাদিনের মনোযোগ কেড়ে নেয়ার দাবীদার শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তা’আলা । 

এবং এটাই তাওহীদ । এটাই বিশ্বাস । এটাই হলো মুসলমান হওয়ার পূর্বশর্ত ।

আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তা’আলা মানবজাতি সহ সমগ্র জগত সৃষ্টিই করেছেন এই “لا الہٰ الا اللہ কে কেন্দ্র করে ।

যখন আপনি এর বিপরীতে অবস্থান নেন এবং অর্থ / সম্মান কিংবা প্রতিপত্তিকে আপনার ‘ইলাহ’ বা ‘ঈশ্বর’ বানান তখনই আপনার দুঃসময়ের শুরু হয়।

কারণ আপনি সূত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

যখন আপনি সে জায়গায় আপনার স্বামী/স্ত্রী/প্রেমিক/প্রেমিকা/সন্তান কে বসান আপনি যন্ত্রণা ভোগ করবেন। আপনি আপনার প্রতিটি কোষ দিয়ে সে যন্ত্রণা অনুভব করবেন।

কেননা এভাবেই আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তা’আলা সমগ্র জগত ডিজাইন করেছেন।

আমাদের হৃদয় এভাবেই গড়ে তোলা হয়েছে। শুধুমাত্র আল্লাহ তা’আলার উদ্দেশ্যেই আমাদের অন্তরাত্মা উৎসর্গ হতে হবে। বস্তুবাদী দুনিয়ার কোনো বস্তু/ব্যক্তির দ্বারা নয় ।

যখনই এর বাইরের কোনো কিছু আমাদের ভেতরে অনুপ্রবেশ করতে যায় আমরা তৎক্ষণাৎ ভেঙ্গে পড়ি । 

ধরে নেয়া যাক, আপনি গ্যাস স্টেশনে গিয়েছেন গাড়ির শুন্য গ্যাস ট্যাঙ্কে গ্যাস ভরার জন্য। হঠাৎ করে আপনার মনে হলো আজকে বরং সি এন জি’র পরিবর্তে ম্যাঙ্গো জুস ভরে গাড়ি চালাবেন। কাজটা কি সুবিবেচকের মতো করা হবে ?

আপনার গাড়ি কি কাজ করবে ?অবশ্যই না !! বরঞ্চ আপনি রাগে দুঃখে আপনার গাড়ী ভেঙ্গে ফেলতে চাইবেন। 

অতএব , কি দাড়ালো ?! আপনি যখন গ্যাস ট্যাঙ্কে ম্যাঙ্গো জুস ভরলেন তখন আপনি গাড়িটা যেভাবে ডিজাইন করা হয়েছে তার পরিপন্থী একটা কাজ করে বসলেন । যার ফলে গাড়ী স্টার্ট হবে না। এটাই স্বাভাবিক।

আমাদের ভেতরকার হৃদযন্ত্রও ঠিক একইভাবে কাজ করে। এটা একটা গ্লাসের মত। আপনি আপনার ইচ্ছানুযায়ী যে কোনো কিছু দ্বারা এটা ভরতে পারবেন ।  

কিন্তু যদি আপনি এটি এই দুনিয়ার লোভ- লালসা দ্বারা পরিপূর্ণ করেন , যদি এটি অর্থ-বিত্তের দ্বারা , সামাজিক মর্যাদা , মানুষ কি ভাবে কিংবা সন্তান-সন্ততি/স্বামী-স্ত্রী দ্বারা পরিপূর্ণ করেন আপনার গ্লাসটি ভেঙ্গে যাবে।

আপনার হৃদয় কখনোই বিশ্রাম পাবে না, কখনোই শান্তি খুজে পাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না এটি যার জন্য ডিজাইন করা তা দ্বারা পূর্ণ না হবে। এবং তা হলো আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তা’আলা !

এবং হ্যাঁ । অবশ্যই তা আল্লাহ তা’আলাকে মনে করার মাধ্যমে , উনার সৃষ্টিকে মনে করার মাধ্যমে না। 

আমাদের মোটেও উচিৎ হবে না আমাদের মন এবং হৃদয় কে অন্য কিছুর দ্বারা আবিষ্ট করা একমাত্র আল্লাহ তা’আলা কে ছাড়া। 

 

#Ustadha Yasmin Mogahed এর লেকচার থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লেখা ! 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s