This Life or Hereafter?

Posted: April 5, 2014 in ইসলাম, এগেইনস্ট দা টাইড

মূল – সাদমান আবেদীন ! 

ছোটবেলা থেকে আমরা বেড়ে উঠি একটা বস্তুবাদী সমাজে। এই সমাজ আমাদের দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন করে রাখে,  এই সমাজ শিখায় সফলতা মানেই ভাল রেজাল্ট, ভাল চাকরি, অঢেল টাকা পয়সা। এই মোহে আবিষ্ট হয়ে আমরা ভুলে যাই, মহান আল্লাহ্‌ তাআলা এই দুনিয়ায় আমাদের কেন পাঠিয়েছেন। ভুলে যাই আমাদের সৃষ্টি করার মূল উদ্দেশ্য হল আল্লাহ্‌র ইবাদাত। ভুলে যাই যে আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ

আমি মানুষ ও জ্বিন জাতিকে আমার ইবাদাত করা ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি [সূরা আয-যারিয়াতঃ ৫৬]

দুনিয়াদারীর সফলতা হাসিল করতে গিয়ে আমরা আমাদের আখিরাতের জীবনটাকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছি। একবার ও কি ভেবে দেখেছেন, যদি এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের আনন্দ, সাফল্য অর্জন করে কি লাভ যখন অনন্তকালের জীবটাই ব্যর্থ হবে?!! একবার ও ভেবেছেন, ১৭/১৮ বছর কষ্ট করে পড়ালেখা করেছেন, বাকি ৫০/৬০ বছর ভালভাবে থাকার উদ্দেশ্যে। কিন্তু অনন্তকাল ভাল থাকার জন্য জীবনের কয়টা বছর কাজে লাগিয়েছেন?!

দুনিয়াতে যখন আল্লাহ্‌ আমাদের পাঠিয়েছেন, তখন জীবনের সব ক্ষেত্রে সেই সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করা, তার ইবাদাত করা আমাদের কর্তব্য। সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌ই আপনার জীবিকার ব্যবস্থা করবেন। জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি আল্লাহ্‌র ইবাদাত করা, তার দ্বীনের পড়াশোনা করা আপনার কর্তব্য।  কিন্তু জীবিকা অর্জন করতে গিয়ে যদি আপনি আল্লাহ্‌র পথ থেকে সরে আসেন, যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত উপার্জনের ইচ্ছা, অতিরিক্ত অর্থের লোভ আপনাকে আপনার দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে দেয় তখন?! তখন আল্লাহ্‌র অসন্তুষ্টি ছাড়া আপনি আর কিছুই আশা করতে পারেন না। আর যে ব্যক্তির উপর আল্লাহ্‌র অসন্তুষ্টি থাকে, সেই ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাত দুই জাহানেই চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়।

আমার ভাই ও বোনেরা, জীবন যাপনের দুটো পদ্ধতি আছেঃ

১ম পদ্ধতিঃ  আপনি বেশ ভাল আয় করছেন, এখন আপনি যদি এই বিষয় নিয়ে ভাবেন যে কিভাবে আপনি আরও বেশি আয় করবেন, কিভাবে নিজের সম্পত্তির পরিমাণ বাড়াবেন, কিভাবে আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স কোটি কোটি টাকা হবে, কিভাবে আপনার সুন্দর একটা বাড়ি হবে, দামি গাড়ি হবে, তাহলে আপনি দুনিয়াদারী কাজে আরও বেশি ব্যস্ত হবেন, এবং একটু একটু করে সরে আসবেন আপনার দ্বীন ইসলাম থেকে।

 

অথবা

২য় পদ্ধতিঃ  আপনি বেশ ভাল আয় করছেন, এখন আপনি ভাবছেন, আপনার সামনে খাবার আছে, থাকার একটা ঘর আছে, পরার মত কাপড় আছে, এখন যদি আপনি অতিরিক্ত আয় নাও করেন, তাহলেও আপনার তেমন কোন সমস্যা হবে না। তো যে অবসর সময়টা আপনি পাচ্ছেন সেটা আপনি দ্বীন ইসলাম নিয়ে পড়াশোনার কাজে ব্যয় করবেন, পরিবারকে সময় দেবেন, আপনার চারপাশের মানুষদের ইসলামের শিক্ষা দেওয়ার কাজে ব্যয় করবেন। তাহলে বিনিময়ে আপনি আল্লাহ্‌র রহমত পাবেন, জীবিকা অর্জনের কাজ আর দ্বীনের খেদমত দুটোই আপনি করতে পারবেন।

 

দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সমাজের অনেকেই ১ম পদ্ধতি বেছে নেন জীবন যাপন করার জন্য। আপনি যদি এমন একজন মানুষ হন তাহলে দেখবেন আপনার জন্য আল্লাহ্‌র ইবাদাত তো দূরের কথা, নিজের পরিবারকেই সময় দেওয়াটা অনেক কষ্টকর হয়ে উঠছে।

 

রাতে দেরি করে ঘরে ফিরে দেখবেন আপনার সন্তানরা ঘুমিয়ে গেছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন সন্তানরা স্কুলে চলে গেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে থাকবেন ক্লান্ত। একারণে সন্তানরা যখন আপনার সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য কাছে আসবে, তখন আপনি হয়ত বলে ওঠবেনঃ “তোমাকে অনেক খেলনা কিনে দেওয়া হয়েছে, যাও রুমে গিয়ে খেল”। ভাঙ্গা মন নিয়ে আপনার সন্তানরা চলে যাবে, আপনার থেকে অনেক দূর। বৃদ্ধ বয়সে যখন আপনি একটু অবসর পাবেন, তখন চাইবেন আপনার সন্তানদের সাথে সময় কাটাতে। কিন্তু তখন আপনার সন্তানরাই আপনাকে বলবেঃ “সরি বাবা, এখন না, পরে”। আর আপনি হয়ত মনের কষ্টে অশ্রু বিসর্জন করবেন। কিন্তু ভাবুন, ঠিক এমনটাই তো আপনি করেছিলেন। যেই দুনিয়ার মোহে আবিষ্ট হয়ে সন্তানদের থেকে দূরে রেখেছেন নিজেকে, সেই দুনিয়ার কারণেই এখন আপনার সন্তান আপনার সাথে সময় কাটাতে আগ্রহ বোধ করছেনা।    এ তো গেল ইহকালের কথা, আর পরকালে আপনার কি পরিণতি হবে? নিচের আয়াতটি দেখুনঃ

 

 

(বস্তুত) এ লোকেরা আখিরাতের (স্থায়ী জীবনের) বিনিময়ে দুনিয়ার (অস্থায়ী) জীবন খরিদ করে নিয়েছে, (এরা যেহেতু আযাব বিশ্বাসই করেনি)তাই (আল্লাহ্‌ তাআলার পক্ষ থেকে) তাদের আযাব কিঞ্চিৎ পরিমাণ ও হালকা করা হবে নাআর না তাদের (কোনোদিক থেকে কোন রকম) সাহায্য করা হবে।   [সূরা আলবাকারাহঃ ৮৬]

কারণ আপনি ভুলে গিয়েছিলেন যেঃ

 

 

আর (এ) বৈষয়িক জীবনএ তো নিছক কিছু খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই না ; (মূলত) পরকালের বাড়িঘরই তাদের জন্যে উৎকৃষ্ট যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে তোমরা কি (মোটেই) অনুধাবন করো না ? [সূরা- আনয়ামঃ ৩২]

তো আমার ভাই ও বোনেরা, প্রশ্ন টা আপনাদের কাছেই রইল, আল্লাহ্‌র দ্বীনের খেদমত করার জন্য পার্থিব জীবনের মোহ ত্যাগ করবেন, নাকি পার্থিব জীবনের মোহে আল্লাহ্‌র দ্বীন এবং আখিরাতের সুন্দর জীবন দুটোই ত্যাগ করবেন? অনিশ্চিত এই দুনিয়ায় সাফল্য লাভের আশায় পরকালের নিশ্চিত সাফল্যকে ত্যাগ করবেন, নাকি দুনিয়ার সাফল্যের পরোয়া না করে আখিরাতের নিশ্চিত সাফল্য লাভের জন্য পরিশ্রম করবেন?  মনে রাখবেনঃ

 

 

হে ঈমানদার ব্যক্তিরাতোমাদের ঐশ্বর্য ও সন্তানাদি যেন কখনোই তোমাদেরকে আল্লাহ্‌র স্মরণ থেকে উদাসীন না করে দেয়, (কেননা) যারা এ কাজ করবে তারা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। [সূরা আল-মুনাফিকুনঃ ৯]

 

যদি কোন ব্যক্তি শুধু এই পার্থিব জীবন ও তার প্রাচুর্য ভোগ করতে চায়তাহলে আমি তাদের সবাইকে তাদের কর্মসমূহ এই (দুনিয়ার) মধ্যেই আদায় করে দেই এবং যেখানে তাদের (বৈষয়িক পাওনা) কম করা হবে না। আসলে এরাই হচ্ছে সে সব (দুর্ভাগা) লোক,যাদের জন্য পরকালে (জাহান্নামের) আগুন ছাড়া আর কিছুই থাকবে না, (দুনিয়ার) জীবনে সেখানে যা কিছু তারা বানিয়েছে তা সব হব বেকারযা কিছু তারা (দুনিয়ায়) করে এসেছে তা সবই হবে নিরর্থক। [সূরা হুদঃ ১৫-১৬]

মহান আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদের সবাইকে হিদায়াত দান করুক।

আমিন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s