Islam v/s Secularism – 1

Posted: September 8, 2014 in আত্মোসংশোধন, ইসলাম, এগেইনস্ট দা টাইড

মূল লেখা – ভাই আসিফ আদনান

 

সেকুলার হিউম্যানিস্ট – ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদের ধারক-বাহকরা আমাদের গল্প শোনান যে ধর্ম কতো খারাপ, ধর্মের নামে কতো মানুষ মারা হয়েছে, ইসলাম মানে পশ্চাৎপদতা, ইসলাম মানে বন্দিত্ব, ইত্যাদি ইত্যাদি। মধ্যযুগে ক্যাথলিক চার্চের ইনকুইযিশান আর ইউরোপের অন্ধকারযুগের বোঝা তারা নির্দ্বিধায় ইসলামের উপর চাপিয়ে দেন। তারা আমাদের বুঝ দেন যে ইসলামের পরিবর্তে তাদের প্রচারিত “মানবতা” আমাদের দিক নির্দেশক, পথপ্রদর্শক আদর্শ হওয়া উচিত। তারা বলেন এই “ধর্মনিরপেক্ষ মানবতা” আমাদের আরো শ্রেষ্ঠতর নৈতিকতার শিক্ষা দিতে সক্ষম।

অথচ এই মানবতার নৈতিক শিক্ষা হল, সমকাম, অযাচার, পেডোফিলিয়া, বিকৃত যৌনাচার ও অবাধযৌনাচার। তাঁদের মুক্তির অর্থ হল, নারীর শরীরকে অনাবৃত করা আর পুরুষের সমস্ত চিন্তা-ভাবনা কিভাবে নারীদেহকে উপভোগের উপকরনে পরিনত করা যায় – এই ব্যাপারে কেন্দ্রীভূত করা।

তাদের প্রচারিত “মুক্তি” আর”সুখ” হল, ভোগবাদ, ব্যাক্তি-কেন্দ্রীকতা আর বস্তুবাদের নামান্তর মাত্র। টাকা বানাও, মেয়ে যোগাড় করো, ফুর্তি করো – এই হল জীবন। এসব ক্ষেত্রে তুমি যতো অগ্রসর হতে পারবে তুমিততো বেশী সফল। যা ইচ্ছা কর, নিজেকে খুশি করা, নিজের প্রবৃত্তিকে আনন্দ দেয়াই মূল কথা।
Life is too short to have any regrets ! So do what you want!
এটা হল তাঁদের প্রচারিত মানবতার বাণী।

গত শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে একজন ব্যাক্তি জন্ম নেন, যাকে আধুনিক স্যাটানিসম [শয়তান উপাসনা] – এর পিতা বলা হয়। এই ব্যাক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডাবল এজেন্টের ভূমিকা পালন করেন এবং বিশেষজ্ঞদের মতে আধুনিক পপুলার মিডিয়া, যাকে আমরা “পপ কালচার” বলি – তার উপরে এই ব্যাক্তির প্রচারিত আদর্শের প্রভাব সবচাইতে বেশী। এই ব্যাক্তির নাম অ্যালিস্টার ক্রাউলী এবং তার প্রচারিত আদর্শের নাম “থেলেমা'[Thelema]। ইন্টারেস্টিং ব্যাপারটা হল, তার মতবাদে শয়তানের উপাসনা করার জন্য আপনার প্রথমে বিশ্বাস করতে হবে যে আপনি নিজে একজন ঈশ্বর। তার প্রচারিত মতবাদে অবাধ ও বিকৃত যৌনাচার, মাদকের ব্যাবহার এবং স্বেচ্ছাচারিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবী করা হয়। এর পেছনের কারণ হল, যেহেতু আপনি নিজে “ঈশ্বর”তাই এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনার নিজের প্রবৃত্তিকে আপনার খুশি করতে হবে, এবং এভাবেই আপনি আপনার নিজের ভেতরের “ঈশ্বর” [নাকি শয়তান?] -কে জাগ্রত করতে পারবেন।

তার ধর্মের মূলনীতি হল – “Do as thou wilt, that is the law”।
ক্রাউলী দাবী করতো অ্যান্টী-ক্রাইস্ট, আল মাসীহ আদ দাজ্জাল আসারআগে সে পৃথিবীকে প্রস্তত করার জন্য একজন নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে নিজের প্রবৃত্তির দাসত্ব এবংক্রমাগত বিকৃত জীবনাচারের মাধ্যমে শয়তানের [সেটা ইবলিস থেকে আল কারীন যে কেউ হতেপারে ] সান্নিধ্য পাওয়া ছিল এই ধর্মের মূলমন্ত্র। লেড যেপলিন-বিটলস থেকে শুরু করেআজকের লেডী গাগা পর্যন্ত – পপ কালচার যে মুলমন্ত্র প্রচার করে চলছে সেটা হল, এই ব্যাক্তিকে ঈশ্বরে পরিনত করার ধর্ম। যুক্তিটা খুবইনজিনিয়াস – যেহেতু আপনি ঈশ্বর [!] তাই আপনার ইচ্ছাই আইন ! যা ইচ্ছা করো – কোন সমস্যা নেই।

“Do as thou wilt that shalt be the whole of the law”

এবার একটু বর্তমান মিডিয়া এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির কথা চিন্তা করুন।
মুক্তচিন্তা, স্বাধীনতা, মানবতা, শান্তি এসবের আড়ালে আসলে কি প্রচার করা হচ্ছে?

অবাধ ব্যাক্তি স্বাধীনতা।

এই স্বাধীনতাকে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন না। যদিও এটা মানুষকে পশুর চাইতেও নিকৃষ্ট পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে – ভয়ঙ্কর সীমা লঙ্ঘনে উৎসাহ যোগাচ্ছে তবুও এর সমালোচনা করা যাবে না।

যেই গণতন্ত্রকে আমাদের সামনে স্বর্গীয়, পবিত্র আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে সেটা প্রকৃতপক্ষে মানুষের খেয়াল খুশির অনুসরন ছাড়া আর কি? সত্যিকার অর্থে – স্রষ্টার দাসত্ব ছেড়ে সৃষ্টির দাসত্ব করার শিক্ষা দেয়া ছাড়া – গণতন্ত্র বিশ্বকে কি দিয়েছে? ধর্ম নিরপেক্ষ মানবতার প্রচারকরা আমাদের বলেছিলেন সেকুলার আদর্শ মানুষকে রক্তপাত, যুদ্ধ, গণহত্যার হাত থেকে মুক্তি দেবে। অথচ সেকুলারিসমের পতাকা ওড়ানো এই পশ্চিমের ট্র্যাকরেকর্ড কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে।
শুধু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গণহত্যার ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখুন, “মানবতা” এবং “সেকুলার জাতীয়তাবাদ” আসলে আমাদের কি দিয়েছে।

সেকুলার/জাতীয়তাবাদের অধীনে গত ৭ দশকে গণহত্যারএকটা ছোট্ট বিবরন –
১৯৭০, ক্যাম্বোডিয়া – ২০ লক্ষ মৃত
৯০-এর দশকে বসনিয়া – কমপক্ষে ২.৫ লক্ষ মৃত
১৯৯৪, রুয়ান্ডা – ৮ লক্ষ মৃত
১৯৯৪-২০০০,চেচনিয়া – কমপক্ষে ২.৫ লক্ষ মৃত, ২ লক্ষ নিখোঁজ
৮০-এর দশকে আফগানিস্তান – কমপক্ষে ১০ লক্ষমৃত
৯০ এর দশকে ইরাক [নিষেধাজ্ঞার ফলস্বরূপ] – কমপক্ষে ১০ লক্ষ শিশু মৃত
১৯৯০-২০১০+, কঙ্গো – কমপক্ষে ৬০ লক্ষ মৃত
২০০৩ থেকে ইরাক – কমপক্ষে ৭ লক্ষ মৃত
২০০১ থেকে আফগানিস্তান – কোন সঠিক সংখ্যা পাওয়া যায় নি, শুধু ২০০১ সালেই ২০,০০০বেসামরিক লোক নিহত।
২০,০০০ শুধু এক বছরে , মনে রাখবেন এই যুদ্ধ ১৩ বছর ধরে চলছে।
ভিয়েতনাম – সঠিক সংখ্যা পাওয়া যায় নি

তার সাথে যোগ করুন গত ৭ দশক ধরে কাশ্মীর এবং ফিলিস্তীনের দখলদারিত্বের অধীনে জীবন কাটানো মুসলিমদের কথা। গত তিন বছর ধরে সিরিয়াতে চলা গণহত্যা। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে মুসলিমদের উপর এই মুহূর্তে চলা গণহত্যা। মালীতে ফ্রান্সের দখলদারী হামলা। আর মিয়ানমারে ন্যাড়া বৌদ্ধ পশুদের হাতে নির্বিচারে মারা পড়া মুসলিমদের কথা।

খুব আশ্চর্যজনকভাবে “মানবতা”, “স্বাধীনতা”, “মুক্তচিন্তা” – এই ব্যাপার গুলোর সুফল কখনো মুসলিমরা পায় না। প্রতিবার কেন জানি পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শক্তি গুলো আর তাঁদের অনুগত দালাল গোষ্ঠীগুলোই লাভবান হয়। কেন জানি মুক্তচিন্তা আর বাকস্বাধীনতা কেবল মাত্র প্রবৃত্তির অনুসরণ, লুটপাট,সাম্রাজ্যবাদ আর ইসলামকে আক্রমণ করার সময়ই মাথা চাড়া দেয়, বাকি সময় কোন এক অজানা কারণে ঘুমিয়ে থাকে।

কেন জানি চিন্তার স্বাধীনতাঁর কথা বলা হলেও যেই মুহূর্তে আপনি গণতন্ত্রের বিরোধিতা করবেন, সেকুলারিসমের বিরোধিতা করবেন – শারীয়াহ প্রতিষ্ঠার দাবী করবেন – যেটা মুসলিম হিসেবে আপনার অধিকারই শুধু না, বরং আপনার উপর আল্লাহ্‌প্রদত্ত দায়িত্ব এবং কর্তব্য – তখনই আপনি “সন্ত্রাসী” হয়ে যাবেন। যখনই আপনি প্রশ্ন করবেন – “কেন শুধু আমরাই মারা যাবো আর তোমরা আমাদের সম্পদ চুরি করে আরাম-আয়েশে জীবন কাটাবে?” – তৎক্ষণাৎ আপনি “জঙ্গি” হয়ে যাবেন। কেন জানি যতক্ষন পর্যন্ত সাম্রায্যবাদের উদ্দেশ্য হাসিল হচ্ছে ততোক্ষণ “বিশ্ব মানবতা” কোন গণহত্যা, কোন অবিচারের বিরুদ্ধেই টু শব্দ পর্যন্ত করে না। কেন জানি পৃথিবীর ৮৫ জন মানুষের হাতে পৃথিবীর মোট সম্পদের অর্ধেকের চাইতে বেশী কুক্ষিগত। এটা হল আধুনিক বিশ্বের সাম্যের রূপ!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s