Marriage : Build Your Citadel !!

Posted: September 8, 2014 in আত্মোসংশোধন, ইসলাম

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”

স্ত্রী হলো শা’ইতানের বিরুদ্ধে দুর্গ! 

সূরা নূরের ৩২নং আয়াতে উল্লেখিত –

“তোমাদের মধ্যে যাদের স্ত্রী নেই,তোমরা তাদের বিয়ের ব্যবস্থা কর, একইভাবে তোমাদের দাস – দাসীদের মধ্যে যারা  ভালো মানুষ তাদেরও (বিয়ের ব্যবস্থা কর) ; তারা যদি অভাবী হয়, (তাহলে) আল্লাহ তা’আলা অচিরেই তার অনুগ্রহ দিয়ে তাদের অভাবমুক্ত করেদিবেন; আল্লাহ তা’আলা প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।“ – (২৪:৩২)

এই আয়াতের তাফসীর থেকে প্রাপ্ত –

  • ইবনে কাসীর

আলেম জামা’আতের সিদ্ধান্ত – “যার সামর্থ্য আছে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব।‘’ ( ইবনে কাসীর ১৫/১৫১)

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি আসসালাম) বলেন –“হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ে করার ক্ষমতা রাখে সে যেন বিয়ে করে। বিয়ে হলো দৃষ্টিকে নিম্নমুখীকারী এবং লজ্জাস্থানকে রক্ষাকারী। আর যে বিয়ে করার ক্ষমতা রাখে না সে যেন রোজা রাখে।এটাই তার জন্য হলো অণ্ডকোষ কর্তিত হওয়া।”

–  বুখারীও মুসলিম

অন্য একটি হাদীসে আছে যে –

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি আসসালাম) বলেন –“যেসব স্ত্রীলোক হতে অধিক সন্তান লাভের আশা আছে তোমরা ঐ সব স্ত্রীলোককে বিয়ে কর, যেন তোমাদের বংশ বৃদ্ধি হয়। আমি তোমাদের মাধ্যমে কিয়ামতের দিন অন্যান্য উম্মতের মধ্যে গর্ব করব। ”

–   সুনানু নাসাঈ

আরো একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি আসসালাম) বলেন –“এমন কি অপূর্ণ অবস্থায় পড়ে যাওয়া (গর্ভপাত হওয়া) শিশুর সংখ্যা গননা করেও আমি গর্ব করব। ”

হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) বলেন, “বিয়ের ব্যাপারে আল্লাহ’র আদেশ মেনে চল, তাহলে তিনি তোমাদের কৃত ওয়াদা পুরো করবেনআল্লাহ তা’আলা বলেছেন – তারা যদি অভাবী হয়, (তাহলে) আল্লাহ তা’আলা অচিরেই তার অনুগ্রহ দিয়ে তাদের অভাবমুক্ত করে দিবেন;  ”

–   আবি হাতিম (রহ), ইমাম ইবনে জারীর (রহ) হতে বর্ণিত।

হযরত আবু হুরাইরা(রা) হতে বর্ণিত আছে যে,

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি আসসালাম) বলেন– “তিন প্রকারের লোককে আল্লাহ তা’আলা সাহায্য করার ওয়াদা দায়িত্ব গ্রহন করেছেন।তারা হলো- বিবাহকারী, যে ব্যভিচার হতে বাঁচবার উদ্দেশ্যে বিয়ে করে থাকে, ঐ মুকাতাব গোলাম, যে তার চুক্তিকৃত টাকা আদায় করার ইচ্ছা রাখে এবং আল্লাহ’র পথের গাজী। ”

–   মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ

 

বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিআসসালাম) ঐ ব্যক্তির বিবাহ একটি স্ত্রীলোকের সাথে দিয়ে দেন যার কাছে তার একটিমাত্র লুঙ্গি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তার এত অভাব ও দারিদ্র্য সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ(সা) তার বিয়ে দিয়ে দেন এবং তার এই মোহর ধার্য করেন যে, তার কুর’আন কারীম হতে যা কিছু মুখস্থ আছে তাই সে তার স্ত্রীকে মুখস্থ করিয়ে দিবে। এটা একমাত্র এরই উপর ভিত্তি করে যে, মহান আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অনুগ্রহে তাকে এমন জীবিকা দান করবেন যাতার ও তার স্ত্রীর জন্যে যথেষ্ট হবে।

  • ফী যিলালিল কুর’আন

নারী হোক বা পুরুষ হোক যারা বিয়ের যোগ্য ও বিয়েকরতে ইচ্ছুক , তাদের বিয়ে শুধু অর্থাভাবে আটকে থাকবে এটা অন্যায় ও অবৈধ। মনে রাখতে হবে , জীবিকা আল্লাহ’র হাতে। (১৪তম খন্ড/পৃষ্ঠা ১৩২)

 

  • মা’আরিফুল কুর’আন

মুজতাহিদ ইমামগন প্রায় সবাই একমত যে, যে ব্যক্তি সম্পর্কে প্রবল ধারনা এই যে, সে বিবাহ না করলে শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকতে পারবেনা।

বিয়ে করার শক্তি – সামর্থ্য রাখে এমন ব্যক্তির জন্য বিয়ে করে ফরজ/ওয়াজিব। সে যতদিন বিয়ে করবে না। ততদিন গুনাহগার থাকবে।

–  ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৪৩

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিআসসালাম)  হজরত ওকাফ (রা) কে জিজ্ঞাসা করলেন –

“তোমার স্ত্রী আছে কি? ” তিনি বললেন : না। প্রশ্ন হলো – তুমি কি আর্থিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যশীল? উত্তর হলো – হ্যাঁ। আবারো প্রশ্ন হলো – “ তুমি কি বিবাহের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের সামর্থ্য রাখ?” তিনি উত্তরে হ্যাঁ বললে রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি আসসালাম) বললেন – “তাহলে তো তুমি শয়তানের ভাই। তিনি আরও বললেন – বিবাহ হচ্ছে সুন্নাত। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি নিকৃষ্ট , যে অবিবাহিত এবং মৃতদের মধ্যে সে সর্বাধিক নীচ, যে বিয়ে না করে মারা গেছে।” 

–   মুসনাদে আহমাদ

আনাস ইবনে মালিক (রা) হতে বর্ণিত অনুরুপ একটি হাদীস মুসনাদে আহমাদে উল্লেখিত আছে।

“নফল ইবাদতে মশগুল হওয়ার চাইতে বিবাহ করা উত্তম” – ইমাম আবু হানিফা(রহ)

 তোমাদের নিকট যদি এমন পাত্র বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীনদারী ও চরিত্র তোমাদের নিকট পছন্দসই, তবে তার সাথে তোমাদের কন্যাদের বিবাহ দিয়ে দাও। যদি তোমরা এরূপ না কর (দ্বীনদার ও চরিত্রবান পাত্রকে প্রত্যাখ্যান কর এবং তাদের সাথে কন্যাদের বিবাহ না দাও) তবে এর কারণে পৃথিবীতে অনেক বড় ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হবে। (তিরমিযী)

 

যাদের কাছে দরিদ্র লোকেরা বিয়ের পয়গাম নিয়ে যায়, আয়াতে তাদের প্রতিও নির্দেশ আছে যে, তারা যেন শুধু বর্তমান দারিদ্র্যের কারনেই বিবাহে অস্বীকৃতি না জানায়। অর্থকড়ি ক্ষণস্থায়ী বস্তু। এই আছে এই নেই। কাজের যোগ্যতা আসল জিনিস। এটা বিদ্যমান থাকলে বিয়েতে অস্বীকৃতি জানানো উচিৎ নয়। – পৃষ্ঠা ৪৪৬

হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, এই আয়াতে আল্লাহ তা’আলা মুসলিম দের বিয়ে করতে উৎসাহিত করেছেন এবং বিয়ের কারণে তাদেরকে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য দান করার ওয়াদা করেছেন।

 

হযরত ইবনে মাস’উদ (রা) বলেন – তোমরা যদি ধনী হতে চাও, তবে বিয়ে কর। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, তারা যদি অভাবী হয়, (তাহলে) আল্লাহ তা’আলা অচিরেই তার অনুগ্রহ দিয়ে তাদের অভাবমুক্ত করে দিবেন;

হুঁশিয়ারি

তাফসীরে মাজহারীতে বলা আছে যে, “স্মর্তব্য যে,বিয়ে করার কারণে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে ধনাঢ্যতা দান করার ওয়াদা তখন, যখন পবিত্রতা সংরক্ষন ও সুন্নাত পালনের নিয়তে বিয়ে করা হয়, অতঃপর আল্লাহ’র উপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা করা হয়। এর প্রমান পরবর্তী আয়াত –

 

অর্থাৎ যারা অর্থসম্পদের দিক দিয়ে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না এবং বিয়ে করলে আশঙ্কা আছে যে, স্ত্রীর অধিকার আদায় না করার কারণে গুনাহগার হয়ে যাবে, তারা যেন পবিত্রতা ও ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করে, যে পর্যন্ত না আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে মালদার করে দেন। তারা এরুপ করলে আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে বিবাহের সামর্থ্য পরিমানে অর্থসম্পদ দান করবেন। ”

 

 

সহীহ তিরমিজিতে বর্ণিত একটি হাসান হাদীস –

 

রাসুলুল্লাহ (সা) তার সাহাবীদের একজনকে বলেন –“তুমি কি বিয়ে করেছো?” লোকটি উত্তরে বলেন – “জী না। আমার বিয়ে করার মত সামর্থ্যনেই। ” রাসুলুল্লাহ (সা) তখন বলেন “সূরা ইখলাস কি তোমার সাথে নেই (অর্থাৎ এ সূরাটিকি তোমার মুখস্থ নেই)?” সাহাবী জবাবে বললেন – “হ্যাঁ (তা তো আছেই)।” রাসুলুল্লাহ(সা) বললেন, “এতে কুর’আনের ১/৩ অংশ হলো।” তারপর বললেন,”তোমার সাথে কি সূরা নাসরনেই? ” সাহাবী বললেন,”জী আছে।” নবী করিম (সা) এরপর বললেন “এতে কুর’আনের ১/৪ অংশহলো।”

এরপর বললেন,”তোমার সাথে কি সূরা কাফিরুন নেই? ”সাহাবী বললেন,”জী আছে।” নবী করিম (সা) এরপর বললেন “এটা কুর’আনের ১/৪ অংশ।”

অতঃপর বললেন,”তোমার সাথে কি সূরা যিলযাল নেই? ”সাহাবী বললেন,”জী আছে।” নবী করিম (সা) এরপর বললেন “এটাও কুর’আনের ১/৪ অংশ। যাও এবার বিয়ে করে নাও।”

সুবহান’আল্লাহ। কত সহজ এবং কত সুন্দর আমাদের এই দ্বীন ।

 

  • তিরমিযী শরীফের হাদিসে আছে ‘‘তিনটি বিষয়ে দেরী নয়- ১.সময় হলে নামাজে, ২.লাশ এসে গেলে জানাযায়, ৩ সমমানের পাত্র পেলে বিয়েতে।

কুরআনের সুরা রুমে বৈবাহিক সম্পর্কে মধ্যমে দয়ামায়া ভালবাসা, আত্মীয়তা সম্পর্ক সৃষ্টি হৃদ্যতা,সহানুভূতি বৃদ্ধিসম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। কাকে বিয়ে করবে কাকে করবে না এ বিষয়ে কুরআনের সুরানিসার ২২ নং আয়াত হতে ২৪ নং আয়াত পর্যন্ত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। মূর্তিপূজক বা শিরককারীদের বিয়ে না করতে কুরআনের সুরা বাকারার ২২১ নং আয়াতে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।পাত্র পাত্রী কেমন হবে যাচাই সাপেক্ষে বিয়ে করতে কুরআনের সুরা নূর এর ২৬ নং আয়াতে বলে দেয়া হয়ছে। 

কিন্তু এই সমাজ তো খারাপ বলবে !!! বাঁকা চোখে তাকাবে!!!

সূরা ইউসুফের ১০৬ নং আয়াতের তাফসীর হতে –

হযরত মাহমুদ ইবনু ওআলিদ (রা) হতে বর্ণিত –রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “তোমাদের উপর আমার যে জন্যে সবচেয়ে ভয়,তা হচ্ছে ছোট শিরক।” সাহাবীগন জিজ্ঞাসা করলেন, “হে আল্লাহ’র রাসুল(সা)! ছোট শিরক কি?” তিনি উত্তরে বলবেন-“রিয়াকারী (লোক দেখানো কাজ)। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা লোকদেরকে কর্মের প্রতিদান প্রদান করবেনঐ সময় তিনি ঐ রিয়াকারদের বলবেন-“হে রিয়াকারদের বলবেন – “হে রিয়াকারগন! তোমরা যাদেরকে দেখানোর জন্য আমল করতে তাদের কাছেই আজ প্রতিদান চাও। দেখা যাক তারা তা দিতে পারে কি না।” – মুসনাদে আহমাদ

 

সূরা আহজাবের ৩৭ নং আয়াত –

তুমি মানুষদের কথাকেই বেশী ভয় করছিলে, অথচ(তুমি জানো) আল্লাহ তা’আলাই ভয় পাওয়ার ব্যাপারে বেশী হকদার।

সূরা মায়িদার ৪৪,৪৯ এবং ৫০ নং আয়াত

So do not fear the people but fear Me, and do not exchange My verses for a small price [i.e., worldlygain].And whoever does not judge by what Allah has revealed – then it is those who are the disbelievers.

[5:44]

 

And judge [O Muúammad], between them by what Allah has revealed and do not follow their inclinations and beware of them,lest they tempt you away from some of what Allah has revealed to you. And if they turn away – then know that Allah only intends to afflict them with some oftheir [own] sins. And indeed,

many among the people are defiantly disobedient.

[5:49]

 

Then is it the judgment of [the time of]ignorance they desire? But who is better than Allah in judgment for a peoplewho are certain [in faith].

[5:50]

 

আল্লাহ’র কথা বাদ দিয়ে অন্যের কথা না শোনা/না মানার ব্যাপারে কড়ানির্দেশ

And if you obey most of those upon the earth, they will mislead you from the way of Allah.They follow not except assumption, and they are not but falsifying.[সূরা আন’আমঃ৬-১১৬]

 

তাফসীরে ইবনে কাসীরের ৭ম খন্ড(পৃষ্ঠা ৮৪৯) হতে প্রাপ্ত –

ইয়াহুদীদের কয়েকজন বড় বড় নেতা এবং আলেম আপোষে এক মিটিং করে রাসুলুল্লাহ(সা) এর নিকট হাযির হয় এবং বলেঃ “আপনি জানেন যে, আমরা যদি আপনাকে মেনে নেই তবে সমস্ত ইয়াহুদীরা আপনার নবুওয়াতকে স্বীকার করে নিবে। আর আমরা আপনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত আছি। আপনি শুধু এটুকু করেন যে, আমাদের মধ্যে এবং আমাদের কওমের মধ্যে একটা বিবাদ আছে,আপনি আমাদের মতানুজায়ী এর মীমাংসা করে দিন।”

রাসুলুল্লাহ (সা) ওটা অস্বীকার করলেন । ঐ সম্পর্কেই এ আয়াতগুলো নাযিল হয়।

 

তিবরানী (রহ) এর হাদীস গ্রন্থে হযরত ইবনে আব্বাস(রা) হতে বর্ণিত আছে যে , রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন –“ঐ ব্যক্তি আল্লাহ’র সবচেয়ে বড় শত্রু যে ইসলামে অজ্ঞতাযুগের নিওম-কানুন ও চাল-চলন অনুসন্ধান করে। ” (হাদীস টি সহীহ বুখারীতেও আছে আরএকটু বিশদ ভাবে) 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s